তারেকের জঙ্গি কানেকশন

ডেস্ক রিপোর্ট: আগামী নির্বাচনে বিএনপি জিতলে তারেক জিয়া প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এ বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তোলপাড় চলছে। আর এ সূত্র ধরেই তারেক জিয়ার সঙ্গে বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের যোগসূত্র খবর পাওয়া যাচ্ছে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা একাধিক দেশ তারেক জিয়ার রাজনীতির আদ্যোপান্ত অনুসন্ধান করতে গিয়ে জঙ্গি কানেকশনের অনেকগুলো সূত্র পেয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক সূত্র বলছে যে, এফবিআই তদন্তে তারেক জিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশী এবং আন্তর্জাতিক জঙ্গি নেটওয়ার্কের যোগাযোগের খবর পাওয়া গেছে। তারেক জিয়া বাংলাদেশ অন্তত ৩টি জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে ধারণা করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

বিশেষ করে হরকাতুল জিহাদ, হিযবুত তাহরী এবং জেএমবির মতো ৩টি সংগঠনের সঙ্গে তারেক জিয়ার প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ যোগাযোগ রয়েছে বলে বিভিন্ন মার্কিন সূত্র দাবি করছে। এই সংগঠনগুলোকে ব্যবহার করে বাংলাদেশে অস্থিরতা এবং নাশকতা সৃষ্টির চেষ্টা হচ্ছে বলেও মার্কিন একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

শুধু বাংলাদেশের উগ্র-মৌলবাদী সংগঠন নয়, ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং উগ্র মৌলবাদী সংগঠনের সঙ্গেও তারেক জিয়ার যোগাযোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তারেক জিয়ার সঙ্গে উলফাদের দীর্ঘদিনের যোগাযোগের কথা আগে থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জানতো এবং উইকিলিকসের ফাঁস করা দলিলে দেখা যায়, এ ব্যাপারে বাংলাদেশস্থ মার্কিন দূতাবাস মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরে জানিয়েছিল।

এছাড়াও ভারতের লস্কর-ই-তৈয়বার একাধিক নেতার সঙ্গে তারেক জিয়ার যোগাযোগের খবর পাওয়া যাচ্ছে। তবে সবচেয়ে আতঙ্কের ব্যাপার হলো তারেক জিয়ার সঙ্গে দাউদ ইব্রাহিমের যোগাযোগ। বিভিন্ন সূত্রগুলো বলছে যে, তারেক জিয়ার সঙ্গে দাউদ ইব্রাহিমের অন্তত দুটি ব্যবসায়িক লেনদেনের তথ্য তাদের কাছে রয়েছে। এছাড়াও তারেক জিয়া বিভিন্ন জঙ্গিবাদী নেতা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে জড়িত বলে ধারণা করছে পশ্চিমা দেশগুলো। বিশেষ করে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই যে সমস্ত জঙ্গি সংগঠনগুলোকে মদদ দিত, সেই সমস্ত জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে তারেকের সম্পর্ক রয়েছে। একাধিক সূত্র দাবি করে যে, তারেক জিয়ার সঙ্গে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই এর দীর্ঘদিনের গোপন সম্পর্ক ছিলো।

বিভিন্ন সূত্র থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় যে, ২০০১ সালের নির্বাচনের আগেই তারেক জিয়ার সঙ্গে আইএসআইয়ের একটি সম্পর্ক স্থাপিত হয় এবং এই পাকিস্তানী গোয়েন্দা সংস্থার প্রেসক্রিপশনেই তারেক জিয়া ভারতে যান এবং সেখানে তিনি র এর সঙ্গে বৈঠক করেন। ভারতে র এর একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে তারেক জিয়ার যোগাযোগ ছিলো এবং তাদেরকে বিভ্রান্ত করে ২০০১ সালের নির্বাচনে ভারতের আশীর্বাদ পায় তারেক জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি।

কিন্তু ২০০১ সালে ক্ষমতা দখলের পরই লক্ষ করা যায় ভিন্ন চিত্র। তারেক জিয়া আইএসআই এর পরামর্শ অনুযায়ী ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদেরকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিতে থাকে এবং তারেকের মদদেই ১০ ট্রাক অস্ত্র চলে যাচ্ছিল ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাতে। একারণেই বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মহল মনে করছে যে, তারেক জিয়া বাংলাদেশের রাজনীতি শুধু নয়, আন্তর্জাতিক রাজনীতির জন্য একজন বিপদজনক ব্যক্তিত্ব। আর এ ব্যাপারে তারা বিএনপি’র একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলেছে বলে জানা গেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও দেখুন

কেন লন্ডন যেতে চান না খালেদা জিয়া?

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক : গত দুই মাস আগে ১১ জুন হার্ট অ্যাটাক করার পর সুস্থ হয়ে বাসায় মিনি বার সরিয়ে মিনি হসপিটাল দিয়েছিলেন বিএনপির দুর্নীতিগ্রস্ত চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। বর্তমানে তিনি সুস্থ হয়ে বাসায় আছেন। তবে সুস্থ থাকার পরেও উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন যেতে চাইলেও বর্তমানে সেই সিদ্ধান্ত পাল্টানোর […]

বিস্তারিত

তারেক-শর্মিলার যাতাকলে পিষ্ট খালেদা জিয়া

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: বেগম জিয়ার বিপুল পরিমাণ সম্পদ ও বিদেশে বিনিয়োগকৃত অর্থের ভাগাভাগির হিসেব নিয়ে ভিন্ন রকম এক পারিবারিক দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়েছে। যার বলি হচ্ছেন বিএনপি নেত্রী। তারেক রহমান ও প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলার রাহমানের দ্বন্দ্বের ফায়সালা না হওয়ায় বেগম জিয়ার মুক্তি নিয়ে কিছু করতে পারছেন না […]

বিস্তারিত

জঙ্গিদের মতোই সংগঠিত হচ্ছে জামায়াত

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষনেতা ও মানবতাবিরোধী হিসেবে দণ্ড পেয়ে ফাঁসিতে মৃত্যুবরণকারী মতিউর রহমান নিজামী ও মাওলানা আব্দুস সোবহানের বাড়ি পাবনা জেলায়। বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় থাকাকালীন মতিউর রহমান নিজামী মন্ত্রী ছিলেন এবং পুরো পাবনা জেলায় দলকে সংগঠিত করেছিলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর যুদ্ধাপরাধীদের বিচার শুরু হয় এবং জামায়াতের বড় […]

বিস্তারিত