১৫ আগস্ট ও খালেদা জিয়ার জঘন্য জন্মদিন নাটক

১৫ আগস্ট ও খালেদা জিয়া

নিউজ ডেস্ক: খালেদা জিয়া। এই নামটিই বাংলাদেশে বারবার জন্ম দিয়েছে একের পর এক বিতর্কের। কখনো অতি স্বজনপ্রীয়তা কিংবা দুর্নীতি আবার কখনোবা চারিত্রিক ত্রুটি। তবে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার দিনটিকে তথা জাতীয় শোক দিবসে (১৫ আগস্ট) জন্মদিন পালনের যে জঘন্য রীতি সে তৈরী করেছে তা যেন তার সকল হীনতাকে হার মানায়। আর সেই সাথে এটি বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডে তার স্বামী জিয়াউর রহমানের সংশ্লিষ্টতারই যেন ইঙ্গিত বহন করে। বাবা মা যেদিনটিতে তাকে পৃথিবীর আলো দেখিয়েছিলেন সেই বাবা মার দেয়া জন্মস্বীকৃতিকে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এই খালেদা।

খালেদা জিয়ার জন্মদিন নিয়ে এ পর্যন্ত মোট পাঁচটি তারিখ পাওয়া গেছে যা শেষপর্যন্ত হাইকোর্টে গড়িয়েছে। তার এসএসসির নম্বরপত্রে জন্ম তারিখ ৫ সেপ্টেম্বর ১৯৪৬। বিবাহ নিবন্ধনে জন্ম তারিখ লেখা রয়েছে ৯ আগস্ট ১৯৪৪। ২০০১ সালে নেওয়া তার মেশিন রিডেবল পাসপোর্টে জন্ম তারিখ ৫ আগস্ট ১৯৪৬। চলতি বছরের মে মাসে তার করোনাভাইরাস পরীক্ষার প্রতিবেদনে জন্ম তারিখ লেখা হয়েছে ৮ মে ১৯৪৬। আর খালেদা জন্মদিন পালন করে ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবসে। এই উদযাপনে মিশে থাকে প্রতিহিংসা, মিথ্যা ও ইতিহাস বিকৃতি।

দেশের প্রথম সারির একটি জাতীয় দৈনিকের তথ্য অনুযায়ী, বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর ১৯৯৩ সালের ১৫ আগস্ট জন্মদিন উদযাপন শুরু করে তবে তখনও তাতে অতিমাত্রায় আড়ম্বর পরিলক্ষিত হয়নি। জন্মদিন কেক কেটে উদযাপন শুরু হয় ১৯৯৬ সাল থেকে। মিন্টু রোডে নিজ বাসভবনে নেতাকর্মীদের সাথে বেশ ঘটা করে ঐ বছরের ১৫ আগস্ট তার জন্মদিন পালন আগের সকল বিতর্ককে ছাপিয়ে যায়।

তবে এ ঘটনায় কিছু প্রশ্ন রয়ে যায়। প্রথমত, ১৯৯১ সালের আগে তিনি কি নিজের জন্মদিন কখনও পালন করেননি? দ্বিতীয়ত, করে থাকলে দিনটি কবে এবং তা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে এলো না কেন? তৃতীয়ত, নাকি ক্ষমতায় আরোহণের পর থেকে শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধু বিদ্বেষের উগ্রতার প্রকাশ ঘটাতেই খালেদা জিয়াসহ তার নেতাকর্মীদের এই আয়োজন?

প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে সামনে আসে, ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠনের পর বঙ্গবন্ধু সপরিবারে নিহত হওয়ার দিন, অর্থাৎ ১৫ আগস্টকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করা হয়। সুতরাং জাতীয় শোক দিবসের আবহকে ব্যাহত করতে একই দিনে ঘটা করে খালেদা জিয়ার জন্মদিন পালনের একটি যোগসূত্র এখানে পাওয়া যায়।

এ প্রসঙ্গে রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক এ আরাফাত বলেন, জন্মদিন পালন নিয়ে তার নাটকের উদ্দেশ্য মূলত সাধারণ জনগণ; বিশেষ করে অপেক্ষাকৃত তরুণদের মধ্যে এই দিন সম্পর্কে, বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে ভুল বার্তা দেওয়া। যে দিনটি বাংলাদেশকে অন্ধকারে নিমজ্জিত করেছিলো, সে সম্পর্কে যেন তরুণ প্রজন্ম কিছু জানতে না পারে এ এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা। ১৫ আগস্ট উদযাপন করা দিনটি খালেদা জিয়ার আসল জন্মদিন নয়। ফলে স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের ইতিহাসের অন্ধকারতম দিনে জন্মদিন পালন করে পরবর্তী প্রজন্মের কাছে কি বার্তা দিতে চেয়েছেন তিনি তা সহজেই অনুমেয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও দেখুন

সমাজসেবার আড়ালে যৌনতেষ্টা মেটাচ্ছেন বহুগামী সোনিয়া

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: সোনিয়া আক্তার স্মৃতি। সমাজসেবার আড়ালে মিটিয়ে নিচ্ছেন নিজের যৌনতেষ্টা। বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ায় তার শয্যাসঙ্গী বেশিরভাগই দলটির নেতারা। তবে যে পুরুষ তাকে তুষ্ট করতে পারে না তার সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিছানায় যান না সোনিয়া। তাই ছাত্রদলের সভাপতি রওনক হাসান শ্রাবণের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙ্গে যায় সোনিয়ার। কারণ শ্রাবণ […]

বিস্তারিত

খুনি জিয়ার পাপাচার ও পাকিস্তানপ্রীতি

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে দায়ী জিয়াউর রহমান এক সময় প্রেসিডেন্ট সায়েমকে জোরপূর্বক ক্ষমতা থেকে সরিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে। এরপর ক্ষমতায় বসে জিয়াউর রহমান তার আসল চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। বঙ্গবন্ধু হত্যাপরিকল্পনার কথা জানা থাকা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বাধা দেয়া তো দূরের কথা […]

বিস্তারিত

উত্তপ্ত রাজনীতিতে নিষ্প্রভ নুরের দল

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল ‘গণঅধিকার পরিষদ’ গঠন করেছিলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। গণঅধিকার পরিষদ গঠনের পর রাজনীতিতে নানা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, এই দল নতুন ধারার সূচনা করবে। কিন্তু এক বছর যেতে না যেতেই প্রায় হারিয়ে গেছে নুরের […]

বিস্তারিত