২১ আগস্ট: দেশকে নেতৃত্বশূন্য করাই ছিল সেদিনের মিশন

নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতার প্রাক্কালে ১৪ ডিসেম্বর যেভাবে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছিল, ঠিক একই উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় চালানো হয়েছিল ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা। দেশে বিরোধী মতকে দমন ও নিশ্চিহ্ন করার অংশ হিসেবে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার উপর এই হামলা করা হয়। এই হামলায় নিহত হন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ এর মহিলাবিষয়ক সম্পাদক আইভি রহমানসহ ২৪ জন, এবং আহত হন শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের কয়েকশ নেতা-কর্মী।

বর্বরোচিত এই হামলার হোতা হিসেবে কাজ করেছিল তারেক রহমান, হারিছ চৌধুরী, লুৎফুজ্জামান বাবর, কুখ্যাত যুদ্ধাপরাধী মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মুজাহিদ। ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলায় মাঠ পর্যায়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অন্যতম ভূমিকা পালন করে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু ও তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দীন।

প্রাথমিকভাবে তাজউদ্দীন হরকাতুল জিহাদকে পরিকল্পনায় সম্পৃক্ত করে। হামলা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয় হুজির রাজশাহী জেলার প্রধান মুফতি হান্নানকে। এ হামলা বাস্তবায়ন হলে হুজিকে রাজনীতিতে আসার সুযোগ দেয়া হবে এই মর্মে হুজির আমির আবদুস সালামকে প্রতিশ্রুতিও দেয়া হয়েছিল। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি যে, বিশ্বে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন হিসেবে পরিচিত এই হুজি তৎকালে নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করেছিল।

বিভিন্ন সূত্রের প্রাপ্ত তথ্যে ২০০৪ সালের ফেব্রুয়ারি ও জুন মাসে তারেক রহমান সিঙ্গাপুরে বসে হামলার পরিকল্পনা করেন বলে জানা গেলেও ওই বছরের ফেব্রুয়ারিতে তারেক বিজি-০০৭ বিমানে কোথায় গিয়েছিল তার সকল তথ্য মুছে ফেলা হয়। ধারণা করা হয় সে সময় তারেক থাইল্যান্ড হয়ে পাকিস্তান সফর করেছিল। তারেক ফিরে আসে ২৩ বা ২৪ আগস্ট। ২১ আগস্ট হামলার পরিপ্রেক্ষিতে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তারেক মালয়েশিয়ায় পাড়ি দিত। এসব নানা প্রমাণাদিই তারেককে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার হোতা হিসেবে প্রমাণ করে।

এব্যাপারে রাজনৈতিক বিশ্লেষক বিভুরঞ্জন সরকার বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা কোন বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। এর সঙ্গে জড়িত বিএনপি লালিত বিচ্ছিন্নতাবাদ, জঙ্গীবাদ ও উগ্রপন্থার শেকড়। সুষ্ঠু রাজনীতির স্বার্থে তারেক রহমানসহ হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শাস্তি নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি। কেননা একাত্তরের পরাজিত শক্তি ও দোসররা বারবার আগস্ট মাসকে তাদের দানবীয় হত্যাযজ্ঞের মাস হিসেবে বেছে নিয়েছে। ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা, ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে জেলের মধ্যে হত্যা, ৭ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধা হত্যা, ১৭ আগস্ট দেশব্যাপী সিরিজ বোমা বিস্ফোরণ এবং ২১ আগস্ট শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা একসূত্রে গাঁথা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন

‘ফিল্ডার গাড়িতে গরু চুরি’ করে বিএনপি নেতা

নিউজ ডেস্ক : দীর্ঘদিন ধরে সিলেট, মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি হওয়ার ঘটনায় আতঙ্কে ছিল এই এলাকার বাসিন্দারা। অনেক পাহারা বসিয়েও তারা চোর ধরতে পারছিল না। ধরবেই বা কীভাবে- চোর যে খুব ধুরন্ধর। গরু চুরি করে বিলাসবহুল গাড়িতে করে। গরু চুরি করে গাড়িতে তুলে সবার সামনে দিয়েই চলে যায় কিন্তু কেউ বুঝতে পারে না। সোমবার […]

বিস্তারিত

লোকসমাগমের জন্য ৫ কোটি টাকা চাইলো রাজশাহী বিএনপি!

নিউজ ডেস্ক : আগামী ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে বিএনপির সর্বকালের সর্ববৃহৎ সমাবেশ করতে চায় রাজশাহী বিএনপিসহ কেন্দ্রীয় নেতারা। অন্যান্য বিভাগীয় সমাবেশের চেয়ে বেশি লোকসমাগমের জন্য চলছে দিনরাত প্রস্তুতি। রাজশাহী বিএনপির নেতাকর্মীরা বিরিয়ানির দাওয়াত আর নগদ টাকা দিচ্ছেন বাড়ি বাড়ি গিয়ে। তবে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য জানা গেছে, লোকসমাগমের জন্য দলীয় হাইকমান্ডের কাছে ৫ কোটি টাকা দাবি করেছে […]

বিস্তারিত

কোথায় ফালু? কোথায় খালেদা?

নিউজ ডেস্ক: বিগত চার বছর রাজনীতির বাইরে কখনো কারাগার, কখনো হাসপাতাল আবার কখনো গুলশানের বাসায় দিন পার করছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এসময়ে অসংখ্য নেতাকর্মী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে আসলেও একটি বারের জন্যেও যোগাযোগ করেনি বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা ও দুর্নীতিগ্রস্ত পলাতক ব্যবসায়ী মোসাদ্দেক আলী ফালু। এমনকি পরবর্তীতে খালেদা জিয়া তার বাসভবন ফিরোজাতে […]

বিস্তারিত