তৃণমূলে গ্রুপিং, বিভক্ত বিএনপি

মহানগর, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে গ্রুপিং থাকলেও বিএনপির মাথা ব্যথার কারণ এখন সংসদীয় আসনভিত্তিক গ্রুপিং। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিএনপির প্রায় বেশির ভাগ সংসদীয় এলাকায় এক বা একাধিক, কোথাও কোথাও ততোধিক গ্রুপ মাঠে সক্রিয় আছে। নির্বাচন ঘনিয়ে এলে মনোনয়ন প্রত্যাশায় আঞ্চলিক এসব গ্রুপিং মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে। এসব গ্রুপিং এর কারণে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালনেও অনেক সময় সমস্যা তৈরি হয়। সবচেয়ে বেশি সমস্যা তৈরি হয় থানা ও ইউনিয়ন ভিত্তিক কমিটি দেয়ার সময়। প্রতিটি গ্রুপ চেষ্টা করে তাদের নিজস্ব কর্মী সমর্থককে পদায়ন করার জন্য। অঞ্চলভিত্তিক এসব কমিটি দেয়ার এখতিয়ার জেলা ও থানার থাকলেও; এজন্য কেন্দ্রীয় ও শীর্ষ নেতৃবৃন্দের দারস্থ হয়ে তাদেরকে বিব্রত করে গ্রুপগুলো। একাধিক সূত্র থেকে এ বিষয়গুলো নিশ্চিত হওয়া গেছে।

গ্রুপগুলোর একে অন্যের প্রতি অভিযোগেরও কমতি নেই। বিএনপির কেন্দ্রীয় দপ্তরে একে অন্যের প্রতি অভিযোগ করে অনেক চিঠিও চালাচালি হয়। কখনো কখনো গ্রুপিং এতটাই তীব্রতা ধারণ করে যে সেটা কেন্দ্র ঘুরে খোদ বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দরবার গিয়ে হাজির হয়। এ ধরনের বিষয় নিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বেশ বিরক্ত ও বিব্রত। যেহেতু বিএনপি নিরপেক্ষ সরকার ছাড়া কোন নির্বাচন নিয়ে ভাবছে না, তাই দলীয় মনোনয়ন পেতে সকল প্রকার গ্রুপিং’কে এই মুহূর্তে দলের পক্ষ থেকে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। একইসাথে সবাইকে এই বার্তা দেয়া হচ্ছে, একটি অঞ্চলে যত গ্রুপই থাক আন্দোলনের মাঠে সবাইকে সক্রিয় থাকতে হবে। বর্তমানের ভূমিকাই ভবিষ্যতের জন্য বিবেচনায় থাকবে।

কঠোর বার্তা সত্ত্বেও মাঠে এর প্রভাব কমই লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যেখানে গ্রুপিং প্রকট সেখানে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি পালনের নির্দেশনা গ্রুপগুলো আলাদা আলাদা ভাবে পালন করে। এক গ্রুপের কর্মসূচিতে অন্য গ্রুপের লোকজন উপস্থিত থাকেনা। অনেক গ্রুপ স্থানীয় সরকার সমর্থকদের সহযোগিতায় দলের কর্মসূচি পালন করলেও অন্য গ্রুপ যেন কোন কর্মসূচি পালন করতে না পারে সে ব্যাপারে স্থানীয় প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়। এসব বিষয় দেশের অধিকাংশ জেলায় এখন ওপেন সিক্রেট। কোথাও কোথাও সেটা এতটাই জটিল পরিস্থিতি তৈরি করে যে মহানগর বা জেলা নেতাদের পক্ষে তা সামাল দেয়া সম্ভব হয়না। আবার কোথাও খোদ জেলা সদরই গ্রুপিং এর কারণে বিপর্যস্ত।

তৃণমূলে গ্রুপিং নিরসনে দলের পক্ষ থেকে কোন পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, গ্রুপিং নেই কোন দলে? বিএনপি দেশের বৃহত্তম দল তাই গ্রুপিং তো কিছু থাকবেই। এটার সমাধান একটি চলমান প্রক্রিয়া। আমরা নিয়মিতই সমস্যার সমাধান করি, আবার হয়ত সমস্যা তৈরি হয়। এটা বিএনপির অভ্যন্তরীণ বিষয় এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে এটা আসলে বড় কোন সমস্যা নয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published.

আরও দেখুন

সমাজসেবার আড়ালে যৌনতেষ্টা মেটাচ্ছেন বহুগামী সোনিয়া

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: সোনিয়া আক্তার স্মৃতি। সমাজসেবার আড়ালে মিটিয়ে নিচ্ছেন নিজের যৌনতেষ্টা। বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ায় তার শয্যাসঙ্গী বেশিরভাগই দলটির নেতারা। তবে যে পুরুষ তাকে তুষ্ট করতে পারে না তার সঙ্গে দ্বিতীয়বার বিছানায় যান না সোনিয়া। তাই ছাত্রদলের সভাপতি রওনক হাসান শ্রাবণের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙ্গে যায় সোনিয়ার। কারণ শ্রাবণ […]

বিস্তারিত

খুনি জিয়ার পাপাচার ও পাকিস্তানপ্রীতি

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin নিউজ ডেস্ক: পঁচাত্তরের ১৫ আগস্টে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু হত্যার পেছনে দায়ী জিয়াউর রহমান এক সময় প্রেসিডেন্ট সায়েমকে জোরপূর্বক ক্ষমতা থেকে সরিয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করে। এরপর ক্ষমতায় বসে জিয়াউর রহমান তার আসল চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ ঘটায়। বঙ্গবন্ধু হত্যাপরিকল্পনার কথা জানা থাকা সত্ত্বেও বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বাধা দেয়া তো দূরের কথা […]

বিস্তারিত

উত্তপ্ত রাজনীতিতে নিষ্প্রভ নুরের দল

Share this… Facebook 0 Twitter Telegram Linkedin ২০২১ সালের ২৬ অক্টোবর বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে নতুন রাজনৈতিক দল ‘গণঅধিকার পরিষদ’ গঠন করেছিলেন ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরুল হক নুর। গণঅধিকার পরিষদ গঠনের পর রাজনীতিতে নানা চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছিল। অনেকেই মনে করেছিলেন, এই দল নতুন ধারার সূচনা করবে। কিন্তু এক বছর যেতে না যেতেই প্রায় হারিয়ে গেছে নুরের […]

বিস্তারিত