বিএনপি যেভাবে বারবার হত্যা করতে চেয়েছিলো শেখ হাসিনাকে

নিউজ ডেস্ক: ১৯৯৪ সালে পাবনার ঈশ্বরদীতে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে গুলিবর্ষণ ও হামলা চালানোর পর আরও কয়েকবার বঙ্গকন্যাকে হত্যা করতে চেয়েছিল জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। সূত্র বলছে, খালেদা জিয়ার সরাসরি নির্দেশে শেখ হাসিনাকে হত্যার অ্যাটেম্পট নেয় বিএনপির কর্মীরা। যদিও সুপ্রশিক্ষিত না হওয়ায় তাদের মিশন বারবার ব্যর্থ হয়েছে বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

এ বিষয়ে একজন অপরাধ বিশ্লেষক বলেন, বিএনপির রাজনীতির একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী হচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাই প্রধানমন্ত্রীকে হত্যা করার জন্য তারা কয়েকবার প্রচেষ্টা চালায়। তাদের সব অ্যাটেম্পট একই কথা বলে। অপরাধ বিজ্ঞানের মতে, তাদের ষড়যন্ত্র এখনও অব্যাহত থাকার কথা। রাজনীতির মাঠে বিজয়ী হবার জন্য শেখ হাসিনাকে হত্যাই বিএনপির একমাত্র লক্ষ্য। আর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব অপরাধীদের দ্বারা পরিচালিত হওয়ায় যেকোনো বড় অপরাধ করতে তারা দ্বিতীয়বার চিন্তা করে না।

শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা প্রসঙ্গে বিএনপি থেকে বিতাড়িত এক নেতা বলেন, খালেদা জিয়া কখনোই তার বিরোধী মতের নেতাকে পছন্দ করতেন না। তিনি মনে মনে প্রতিহিংসা লালন করে রাখতেন। নিজের মনের কু-চিন্তা কখনোই তিনি সহজে প্রকাশ করতেন না। আমি সে সময় বেগম জিয়ার একান্ত সচিবের দায়িত্ব পালন করতাম। তাই খুব কাছ থেকেই বেগম জিয়াকে আমি দেখেছি।

দল থেকে বিতাড়িত এই নেতা বলেন, আমার মনে আছে- ১৯৯৪ সালে শেখ হাসিনার ট্রেনবহরে গুলিবর্ষণ ও হামলার দিন খালেদা জিয়া খুব অস্থির ছিলেন। খালেদা জিয়া বারবার কেন্দ্রীয় বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য ও পাবনার সাবেক পৌর মেয়র মোকলেসুর রহমান ওরফে বাবলুকে টিএনটিতে কল দিচ্ছিলেন। সবাইকে অফিস কক্ষ থেকে বের করে দিয়ে কথা বলছিলেন। ফলে সন্দেহ নেই যে খালেদা জিয়ার সরাসরি নির্দেশেই ১৯৯৪ সালে পাবনার ঈশ্বরদীতে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা করা হয়েছিল। আর বেগম জিয়ার সন্তান বর্তমান বিএনপির কর্ণধার তারেক রহমানও একই মানসিকতার মানুষ। অবস্থাদৃষ্টে এটাই বাস্তবতা যে, তারেক রহমান ও বিএনপির একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে শেখ হাসিনাকে হত্যা করা।

এদিকে পাবনা পৌর বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এক নেতা জানান, ঈশ্বরদীতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর গুলিবর্ষণ ও হামলা চালানোর মামলায় পাবনার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত ৯ জনের ফাঁসি, ২৫ জনের যাবজ্জীবন ও ১৩ জনের ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের ঘোষণা করেছেন। যা বিচার বিভাগের জন্য এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। কিন্তু এই বিচারের প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে সরকার প্রধানকে লক্ষ্য করে আরো তির্যক মন্তব্য এসেছে। যা বিএনপির রাজনীতির উগ্র মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ। শেখ হাসিনাকে হত্যা করাই যে বিএনপির একমাত্র লক্ষ্য তা আরো স্পষ্ট করে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আরও দেখুন

বিএনপি কার্যালয়ের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ করেছে রিজভীর কর্মীরা

বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। তবে এতে কেনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। শনিবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে কার্যালয়ের সামনের সড়কে ডিভাইডারের পাশে এই বিস্ফোরণ ঘটে। কে বা কারা এই ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে তা জানা যায়নি। এ বিষয়ে পল্টন থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সেন্টু মিয়া বলেন, আমরা শুনেছি সন্ধ্যার দিকে […]

বিস্তারিত

বিভক্ত বিএনপি, কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই দু’পক্ষের সংঘর্ষ

রাজশাহীর মাদ্রাসা মাঠে বিএনপির গণসমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতাদের সামনেই দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্ল্যাকার্ড ছোড়াছুড়ি করেন উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা। ব্যক্তিগত শো-ডাউনকে কেন্দ্র করে সাবেক সংসদ সদস্য নাদিম মোস্তফার বক্তব্য চলাকালে এ ঘটনা ঘটে। কেন্দ্রীয় নেতারা এ সময় বারবার তাদের নিবৃত্ত করার নির্দেশ দিলেও মারামারি চলতে থাকে। দুই পক্ষই সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। […]

বিস্তারিত

লাশের সন্ধানে বিএনপি

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশে সন্ধানে বিএনপি। যেকোনো মূল্যে লাশ পড়তে হবে এটিই বিএনপির মূল আরাধ্য এবং এ ব্যাপারে বিএনপির নেতা কর্মীদেরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকার মহাসমাবেশকে সামনে রেখে বিভিন্ন পর্যায়ে বিএনপি এখন সমাবেশ করছে। ওয়ার্ডে এবং থানাগুলোতে বিএনপির এই সমস্ত কর্মীসভা গুলোতে কোনো রকম ছাড় না দেওয়া এবং পুলিশ যদি সামান্যতম […]

বিস্তারিত