আন্দোলনে যাদের সঙ্গে নেবে না বিএনপি

আগামী ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ করবে বিএনপি। এই মহাসমাবেশের স্থান নিয়ে এখনও সুরাহা হয়নি। সরকারের পক্ষ থেকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে মহাসমাবেশ করার জন্য শর্তসাপেক্ষে অনুমতি দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে বিএনপি এখন পর্যন্ত বলেছে যে, তারা নয়াপল্টনে সমাবেশ করবে। তবে শেষপর্যন্ত বিএনপি নমনীয় হবে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে এবং বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার ভিত্তিতেই ছাত্রলীগের সম্মেলন ৮ ডিসেম্বর থেকে এগিয়ে নিয়ে ৬ ডিসেম্বর করা হয়েছে যেন মঞ্চ ভাঙ্গাসহ আনুষঙ্গিক কাজ তিনদিনে করা সম্ভব হয়। আর এরই প্রেক্ষিতে মনে করা হচ্ছে যে, ১০ ডিসেম্বর বিএনপি চূড়ান্ত কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করবে না। বরং সরকারকে একটি আল্টিমেটাম দিয়ে আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করবে। আর সেই আন্দোলনের কর্মসূচিতে বিএনপি যে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ইতিমধ্যে সংলাপ করেছে তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে যুগপৎ আন্দোলন করবে।

মূলত নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতেই এই আন্দোলন গড়ে তোলা হবে এবং বিএনপির নেতৃবৃন্দ আশা করছেন যে, তিন থেকে চার মাসের মধ্যে তারা আন্দোলনকে একটি চূড়ান্ত পরিণতির দিকে নিয়ে যেতে পারবেন। রোজার আগেই সরকারকে বড় ধরনের সংকটে ফেলার লক্ষ্যেই এই আন্দোলনের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে বিএনপির একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। তবে যুগপৎ আন্দোলন করলেও এই আন্দোলনে পাঁচটি রাজনৈতিক দল এবং ব্যক্তিকে তারা গ্রহণ করবেনা। কোন অবস্থাতেই তাদের সাথে যুগপৎ আন্দোলন না করার জন্য ইতিমধ্যেই লন্ডন থেকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। যে পাঁচটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে বিএনপি কখনোই আর জোট করবে না বা কোন ধরনের যুগপৎ আন্দোলন করবে না সেই দলগুলোর মধ্যে রয়েছে-

১. বিকল্পধারা: বিকল্পধারা বর্তমানে মহাজোটের অংশীদার। বিএনপির কোনো কোনো নেতার ভাষ্য বিকল্পধারা এখন আবার বিএনপির সঙ্গে জোট বেঁধে আন্দোলন করতে চাইছে। কিন্তু বিএনপির পক্ষ থেকে সরাসরি ভাবে বলা হচ্ছে যে, বিএনপি আর যাই করুক না কেন বিকল্পধারার সাথে কোনো রকম যুগপৎ আন্দোলন করবে না।

২. এলডিপি: কর্নেল (অব:) অলি আহমদের নেতৃত্বে এলডিপির সঙ্গে বিএনপি সংলাপ করেছে। এলডিপির নেতা কর্নেল (অব:) অলি আহমেদের বাসায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছুটে গেছেন। কিন্তু যুগপৎ আন্দোলনে এলডিপিকে না নেয়ার বার্তা দিয়েছেন তারেক জিয়া। বিএনপি অন্য রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আন্দোলন করলেও এলডিপির সাথে কোনো রকম যুগপৎ আন্দোলন করবে না বলেই সর্বশেষ সিদ্ধান্ত নিয়ে জানানো হয়েছে।

৩. গণঅধিকার পরিষদ: ডাকসুর সাবেক ভিপি নুরের দল গণঅধিকার পরিষদের সঙ্গে বিএনপি যুগপৎ আন্দোলন করবে না। গণঅধিকার পরিষদের নেতা রেজা কিবরিয়া সঙ্গে বিএনপির কোনো কোনো নেতার সখ্যতা থাকলেও রেজা কিবরিয়া এবং নুর যথেষ্ট সরকারবিরোধী অবস্থানে থাকলেও এই দলটিকে বিএনপি বিশ্বাস করতে পারছে না। বরং এরাই গোপনে সরকারের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারে বলেই বিএনপির কোনো কোনো মহল মনে করছে। এই ধারণার ভিত্তিতে শেষ পর্যন্ত গণঅধিকার পরিষদ যুগপৎ আন্দোলন থেকে দূরে থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৪. গণফোরাম: ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বাধীন গণফোরামের সঙ্গেও বিএনপি আন্দোলন করবে না। ২০১৮ সালের নির্বাচনে গণফোরামের নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠন করা হয়েছিল যে ঐক্যফ্রন্টের নেতা ছিলেন ড. কামাল হোসেন। কিন্তু কামাল হোসেনকে বিএনপি নেতারা এখন প্রকাশ্যে বিশ্বাসঘাতক মনে করেন এবং এই কারণে ওই নির্বাচনের পর থেকে আস্তে আস্তে কামাল হোসেনের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। এখন আবার কামাল হোসেন নতুন করে আন্দোলন এবং নির্বাচন নিয়ে কথা বলছেন। কিন্তু বিএনপি নেতাদেরকে ড. কামাল হোসেন থেকে নিরাপদ দূরত্বে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক জিয়া। তারা বলেছেন, আর যাই হোক কামাল হোসেনের ফাঁদে পড়া যাবে না।

৫. জামায়াতে ইসলাম: জামায়াতের সঙ্গে কৌশলগত কারণে প্রকাশ্যে যুগপৎ আন্দোলন করবে না বিএনপি। বিএনপি ইতোমধ্যে ২০ দলকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত করেছে। জামায়াতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো যোগাযোগ নেই। আর বিএনপির নেতারা বলছেন যে, জামায়াতের সঙ্গে জোটবদ্ধ বা যুগপৎ আন্দোলনের প্রশ্নই উঠে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *