কোথায় ফালু? কোথায় খালেদা?

নিউজ ডেস্ক: বিগত চার বছর রাজনীতির বাইরে কখনো কারাগার, কখনো হাসপাতাল আবার কখনো গুলশানের বাসায় দিন পার করছেন বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এসময়ে অসংখ্য নেতাকর্মী খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা করতে আসলেও একটি বারের জন্যেও যোগাযোগ করেনি বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা ও দুর্নীতিগ্রস্ত পলাতক ব্যবসায়ী মোসাদ্দেক আলী ফালু। এমনকি পরবর্তীতে খালেদা জিয়া তার বাসভবন ফিরোজাতে ফিরলেও কোন খবর নেয়নি ফালু।

এনিয়ে দলের অভ্যন্তরে গুঞ্জন উঠেছে যে, তবে কী কেবল সুবিধা নিতেই ফালু এতদিন দলীয় নেত্রীর আশপাশে ঘোরাফেরা করতেন! আর সে কারণেই তিনি নেত্রীর মুক্তির পর আর খোঁজ-খবর নেননি!

দায়িত্বশীল একটি সূত্র জানিয়েছে, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালীন সময়ে খালেদা জিয়ার আশপাশে ছায়ার মতো থাকতেন ফালু। সরকার বা দলের গুরুত্বপূর্ণ প্রায় সবধরনের সভাতেই তাকে দেখা যেতো। এ কারণে চেয়ারপারসনের ঘনিষ্ঠ হিসেবে তার পরিচিতি ছিল বেশ। কিন্তু সেই ফালুই একদিনের জন্যও অনলাইন কিংবা মুঠোফোনে খোঁজ নেননি সদ্য কারামুক্তি প্রাপ্ত দলীয় চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার। অথচ সকল প্রতিকূলতার মাঝেও বিএনপির বাকি নেতারা ঠিকিই তার সাথে দেখা করেছেন।

এ নিয়ে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা বলছেন, ঠিক কী কারণে ফালু ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) সঙ্গে এমন করলেন তা আমাদের জানা নেই। তবে এমন আচরণ করা মোটেও ঠিক হয়নি তার। কারণ ম্যাডাম তাকে অনেক পছন্দ করেন। তাহলে কী এখন আমরা সবাই এটাই ধরে নেবো যে, ফালু সাহেব শুধুমাত্র সম্পদের পাহাড় গড়তে দলীয় পরিচয়কে ব্যবহার করেছিলেন? বিষয়টি অস্বাভাবিক হলেও সত্য যে, স্বার্থ উদ্ধারের পর নেত্রীর দুঃসময়ে এখন আর খোঁজ নেই তার।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষক সুভাষ সিংহ রায় বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক মতাদর্শ নিয়ে নতুন করে বলার কিছু নেই। তাদের দলীয় আদর্শ লুটতরাজ ও দুর্নীতির তুলিতে আঁকা। মোসাদ্দেক আলী ফালুও বরাবরই সে পথে হেঁটেছেন। আর নিজের স্বার্থ চরিতার্থ হওয়ায় তিনি আর খালেদা জিয়ার খোঁজ-খবর নিচ্ছেন না। এ থেকে সহজেই অনুমেয়, বিএনপি কোন ধারার রাজনীতিতে অভ্যস্ত এবং সঙ্গত কারণেই ‘দুধের মাছি’ ফালু দলীয় নেত্রীর সর্বশেষ অবস্থা জানতে বা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতেও অনাগ্রহতা দেখিয়েছে।

প্রসঙ্গত, মোসাদ্দেক আলী ফালু বিএনপির আগের কমিটিতে খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। রাজনীতির পাশাপাশি ব্যবসায়ী হিসেবেও তার পরিচিতি আছে। সিকিউরিটিজ, আবাসন, অ্যাগ্রো, আমদানি-রপ্তানি ব্যবসায় জড়িত এই ব্যবসায়ী এনটিভির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তার বিরুদ্ধে অর্থ পাচারসহ দুদকের বেশ কয়েকটি মামলাও রয়েছে। এমনকি দুদকের দায়ের করা মামলায় গত অক্টোবরে তার কয়েকশ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *