যে কারণে সমাবেশের জন্য ১০ ডিসেম্বর বেছে নিল বিএনপি

নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতাবিরোধী ও জনবিচ্ছিন্ন দল বিএনপি তাদের সমাবেশের তারিখ ১৬ ডিসেম্বর অর্থাৎ বাংলাদেশের বিজয় দিবসের পর না দিয়ে কেন ১০ ডিসেম্বর বেছে নিয়েছে, এই প্রশ্ন এখন জনমনে। তারা বলছেন, বিএনপি কি জানে না বাংলাদেশের ইতিহাস?

১৯৭১ সালের ১০ ডিসেম্বর বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১০ থেকে ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ বুদ্ধিজীবী হত্যার মতো নৃশংসতম ঘটনা বাংলাদেশে সংগঠিত হয়। ১০ ডিসেম্বর সিরাজ উদ্দিন হোসেন ও সাংবাদিক সৈয়দ নাজমুল হককে পাকিস্তান সেনাবাহিনী দেশের আলবদর বাহিনীর সহায়তা উঠিয়ে নিয়ে যায়।

অন্যদিকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বদলে নয়াপল্টনের সামনের রাস্তায় তাদের ঢাকার সমাবেশের স্থান নির্ধারণে মরিয়াও দলটি। কিন্তু এখানেও তারা গো ধরে বসছে বাংলা ছবির খল নায়িকা রিনা খানের মত। যে করেই হোক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান নয়, বরং নয়াপল্টনে তাদের সমাবেশ চাই। কিন্তু কি কারণ?

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপির না যেতে চাওয়ার কারণ হিসেবে দেশের বুদ্ধিজীবী মহল মনে করেন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আত্মসমর্পণ করে, ১৯৭১ সালে ৭ মার্চে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই উদ্যানেই ভাষণ দেন। ৭ মার্চের ভাষণ বিএনপির পছন্দ না-ও হতে পারে। কিন্তু কোটি বাঙালির স্পন্দনকে তারা অস্বীকার করতে পারে না।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশে আপত্তি, ১০ তারিখেই বিএনপির সমাবেশ কিংবা জামায়াতকে সাথে নিয়ে তাদের কিসের নতুন কৌশল এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। আশঙ্কা করছেন ক্ষমতা দখল করতে আবারও সেই পেট্রোল সন্ত্রাসের পথেই কি ফিরে যাবে বিএনপি?

আবার তাদের পার্টি অফিসের সামনের ছোট এলাকা-ই কেন সমাবেশের জন্য বেছে নিল, সেটিও তাদের প্রশ্ন। তারা বলছেন, পার্টি অফিসে সমাবেশ করার জন্য বিএনপির এত দৃঢ়তা কেন? এখানে তাদের কি কোনো ক্যু-উদ্দেশ্য আছে?

জনগণের এমন প্রশ্নের বিপরীতে বুদ্ধিজীবী ও রাজনৈতিক সমালোচকরা বলছেন, এমন ভাবনা অমূলক নয়। তাদের অতীত ইতিহাস বেশ কলুষিত। ক্ষমতায় যেতে এমন কোনো কাজ নেই যা তারা করতে পারে না। তাই জনগণকে নিজের ও দেশের জানমাল রক্ষায় সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে। হতে হবে সোনার বাংলার অতন্দ্রপ্রহরী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *