বিএনপির রাজনীতিই হচ্ছে গুজব নির্ভর

মানবাধিকার দিবসে বিদেশিরা বাংলাদেশকে নিষেধাজ্ঞা দেবে- সেই আশায় ১০ ডিসেম্বর সমাবেশের দিন ঠিক করে বিএনপি। কিন্তু জনবিচ্ছিন্ন দলটির আহ্বানে সারা দেয়নি সাধারণ জনগণ। রাজনীতিতে এহেন ব্যর্থতায় সাফল্য খুঁজতে ‘গুজবে’র কৌশল নিয়েছে দলটি। মানুষ পোড়ানো, গাড়ি-বাড়ি পোড়ানো, নারী নির্যাতন ও লুটপাটের কারণে গণমানুষের কাছে যাদের কোনো গ্রহণযোগ্যতা নেই, বিদেশিরা তাদের ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে- সেই আশায় তারা দেশে সহিংসতা ও নাশকতার পরিবেশ সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, যাতে বাঁশিতে ফুঁ পড়লেই ‘খেলা’ শুরু করা যায়। কিন্তু বিধিবাম! জনগণ তাদের ফাঁদে আর পা দেয়নি। এই লেখায় আমি চেষ্টা করেছি বিএনপির গুজবনির্ভর রাজনীতির কিছু বিষয় তুলে ধরতে।

বিএনপির ব্যাকআপ কৌশল:

গত প্রায় ১৪ বছর ধরে সরকারবিরোধী আন্দোলন করছে বিএনপি। কিন্তু প্রতিবারই রাজপথে ব্যর্থ তারা। তবে সরকারবিরোধী আন্দোলনে বার বার ব্যর্থ হলেও, বিএনপি এর ব্যাকআপ রেখেছে বেশ পরিকল্পিতভাবে। আর বিএনপির সেই ব্যাকআপ কৌশল হলো ‘গুজব’। সরকারবিরোধী আন্দোলন করার মতো বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি না থাকলেও, গুজব ছড়াচ্ছেন দলটির সিনিয়র নেতারা। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, জাতিসংঘ বাংলাদেশ সরকারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে বিএনপি-জামায়াত জোটকে ক্ষমতায় বসিয়ে দেবে- এই কথাটাই গত কিছুদিন থেকে প্রচার করে আসছিল গুজবকারীরা। বিদেশে থাকা কিছু পলাতক অপরাধী বিএনপি-জামায়াতের অর্থায়নে অনলাইনে এসব গুজবের মাধ্যমে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করেছে।

বিএনপি ভেবেছিল, তাদের গুজবে উত্তেজিত হয়ে গ্রামাঞ্চল ও মফস্বলের সরলপ্রাণ কর্মীরা নাশকতায় লিপ্ত হবে এবং ১০ ডিসেম্বর সরকার পতনের আন্দোলন করবে। কিন্তু আগের অন্যান্য সব অপচেষ্টার মতো তাদের এই অপকৌশলও বিফলে গেছে। আসুন, বিএনপির পরিকল্পিত কয়েকটি অপপ্রচারের দিকে খুব সংক্ষেপে একবার চোখ বুলিয়ে আসি।

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে অপপ্রচার:

১০ ডিসেম্বর (২০২২) সমাবেশের আগের কয়েকদিন নিষেধাজ্ঞার গুজব ছড়িয়ে উত্তেজিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বিএনপির কর্মীদের। এক সপ্তাহ আগে থেকে নাগরিক টিভি নামের একটি ইউটিউব প্লাটফর্মে দুজন বিএনপি-জামায়াত এজেন্ট নিজেরাই গবেষক সেজে স্যাংশন নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা করে। তারা বিভিন্নভাবে বলার চেষ্টা করে যে, ১০ তারিখে ঢাকায় বিএনপির সমাবেশ চলাকালে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশকে নিষেধাজ্ঞা দেবে। ফলে বিএনপির আন্দোলনের পক্ষে সারা বিশ্ব দাঁড়িয়ে যাবে। আর সরকারের পতন ঘটবে। নাগরিক টিভি বারবার দাবি করে যে, ১০ তারিখ স্যাংশন আসবে বাংলাদেশের ওপর। এমনকি সময়টাও গুরুত্বপূর্ণ। যেসময় বিএনপির সমাবেশ চলবে ঢাকায়, ঠিক সেই সময় যুক্তরাষ্ট্র নিষেধাজ্ঞা দেবে বাংলাদেশকে। ফলে সমাবেশস্থল থেকেই সরকার পতনের জন্য বিএনপি নেতা-কর্মীরা অ্যাকশন শুরু করতে পারবে।

এই প্রোপাগান্ডা যে বিএনপির শীর্ষ নেতারা মাস্টার-প্লান করে ছড়িয়েছে, তা আরো পরিষ্কার হয় এক মাসে আগের আরেকটি গুজব থেকে। পরিচিত গুজবকারী কনোক সারওয়ারের সঙ্গে আলোচনার নামে অনলাইনে একই গুজব ছড়িয়েছেন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা ও বিএনপি সরকারের থিংক-ট্যাংক মাহমুদুর রহমান। নভেম্বর মাস থেকে মাহমুদুর রহমান ছড়ানোর চেষ্টা করছিল যে- ১০ ডিসেম্বর মানবাধিকার দিবস, এদিন আমেরিকা বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করবে। মাহমুদুর রহমান দাবি করেন- মানবাধিকার দিবসে বাংলাদেশের ওপর স্যাংশন আসবে। ফলে দেশ থেকে পালিয়ে যাবে আওয়ামী লীগ সরকার। এটাই ক্ষমতা দখলের জন্য বিএনপি কর্মীদের সামনে সুবর্ণ সুযোগ।

কিন্তু বাস্তবতা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের স্যাংশন তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়- সেখানে বাংলাদেশের নাম নেই। এরপরই হতাশায় নিমজ্জিত হয় বিএনপি-জামায়াতের কর্মীরা। এমনকি ঢাকায় তাদের সমাবেশ শেষ হওয়ায় আগেই সমাবেশস্থল ত্যাগ করে অনেকে বাড়ি ফিরে যেতে শুরু করে। ফলে বরাবরের মতো আবরো প্রমাণিত হয় যে- উস্কানি দিয়ে সরলপ্রাণ কর্মীদের মাধ্যমে মানুষের জানমালের ক্ষতি করতে চেয়েছিল বিএনপি-জামায়াতের নেতারা।

ব্যাংকিং খাত নিয়ে গুজব:

নভেম্বরে (২০২২) হঠাৎ করেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে গুজব ছড়িয়ে পড়ে- ব্যাংকে টাকা নেই। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার মতো দেউলিয়া হতে যাচ্ছে। তাই গ্রাহকরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন। এমনকি ব্যাংক থেকে টাকা তোলার জন্য হুড়াহুড়ি লেগেছে বলেও সামাজিক মাধ্যমগুলোতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

কিন্তু আতঙ্ক যখন জেঁকে বসার উপক্রম, তখন ১৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়- ‘ব্যাংকে গচ্ছিত আমানত নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই। বাংলাদেশের ব্যাংকব্যবস্থা অত্যন্ত সুদৃঢ় অবস্থায় রয়েছে। দেশের ব্যাংকগুলোতে রক্ষিত আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ। এর পরও বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাংকের আমানত তুলে নেওয়ার জন্য ষড়যন্ত্রমূলক খবর প্রচার হচ্ছে। বাংলাদেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থা অত্যন্ত সুদৃঢ় অবস্থায় রয়েছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থায় তারল্যের কোনো সংকট নেই।’

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫১ বছরে কোনো ব্যাংক বন্ধ হয়নি। আশা করা যায়, আগামী দিনেও বাংলাদেশের কোনো ব্যাংক বন্ধ হবে না। ব্যাংকগুলোতে জনগণের আমানত সম্পূর্ণ নিরাপদ রয়েছে।’ শুধু তাই নয় সাম্প্রতিক সময়ে রিজার্ভ নিয়েও একই রকম গুজব প্রচার করে বিএনপি ও জামায়াতের অনুসারীরা। এমনকি এনিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েও গুজব ছড়ান দলের শীর্ষ নেতারা। গত ৮ আগস্ট এক সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘দেশে রিজার্ভের অর্থ ফুরিয়ে আসছে। দেশ দেউলিয়া হয়ে যাচ্ছে।’

গুজব ছড়ানোর উদ্দেশ্যে, বাংলাদেশকে বারবার শ্রীলঙ্কার সঙ্গে তুলনা করে বক্তব্য দিয়েছেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা। কিন্তু গত ২৬ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান জানান, ‘দেশের রিজার্ভ নিয়ে ভয়ের কিছু নেই। আইএমএফের ঋণসহ দেশে রিজার্ভ আছে ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা দিয়ে চলবে ৬ মাস।’

বিভাগীয় সমাবেশগুলোতে মানুষের উপস্থিতি:

রাষ্ট্র নিয়ে লাগাতার গুজব ছড়ানো ছাড়াও নিজেদের রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েও গুজবের আশ্রয় নিয়েছে বিএনপি। সম্প্রতি বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে দলটি। সেখানে দাবি করা হয়, তাদের সমাবেশে লাখো মানুষের জমায়েত হয়েছে। কিন্তু একটি ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠান সেই ছবি বিশ্লেষণ করে দেখায়, বড় জমায়েত দেখানো দুইটি ছবিই এডিট করে তৈরি করা হয়েছে।

এমনকি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার সাবেক সহকারী তথ্য কর্মকর্তা মুশফিকুল ফজল আনসারী আবার আরো একধাপ এগিয়ে। ১০ ডিসেম্বরের সমাবেশ কেন্দ্র করে, কয়েকদিন আগে, নয়াপল্টনে বিএনপির সন্ত্রাসী তৎপরতা থামানোর জন্য পুলিশের অ্যাকশনকে ভারতীয় বাহিনীর অ্যাকশান বলে ব্যাপক ধর্মীয় উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করেছে সে। আনসার সদস্যের ছবি দেখিয়ে সে তাকে ভারতীয় নাগরিক বা ছাত্রলীগ কর্মী বলে গুজব ছড়ায় বর্তমানে এই প্রবাসী বিএনপি নেতা।

এমনকি ঢাকার বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেনের ফেসবুক থেকেও এরকম গুজব ছড়ানো হয়। কিন্তু পুলিশের ব্রিফিং থেকে আপনারা নিশ্চই জেনে গেছেন যে, পুলিশের সঙ্গে সেদিন আনসার বাহিনী আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করেছে। জার্সি পরা ব্যক্তি আনসারের সদস্য। ওই আনসার সদস্য নিজেও গণমাধ্যমে এর ব্যাখ্যা দিয়েছে। যা দেখেছে দেশের মানুষ। সব জানার পরেও ইচ্ছাকৃতভাবে মুসফিকুল ফজল আনসারী কিন্তু উস্কানি ও সহিংসতা সৃষ্টির জন্য গুজব সৃষ্টির পথে হেঁটেছে। সে চাচ্ছে দেশে একটি দাঙ্গা সৃষ্টি করে বিএনপি-জামায়াতকে নাশকতার সুযোগ তৈরি করে দিতে। এটি বিএনপি হাই কমান্ডের ধারাবাহিক গুজব ছড়ানোর কৌশলের অংশ।

প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে হীন অপপ্রচার:

হত্যা-খুন-নাশকতা করে জনমানুষের মন থেকে ছিটকে পড়েছে বিএনপির রাজনীতি। এরপর থেকে তারা কোটি কোটি ডলার খরচ করছে বিদেশি লবিস্টদের দিয়ে বাংলাদেশবিরোধী অপপ্রচার চালাচ্ছে। এমনকি তারা গুজব ছড়াচ্ছে যে- শেখ হাসিনার পতন হচ্ছে এবং তারা দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়ার জন্য রেডি হচ্ছে। জনরোষের হাত থেকে শেখ হাসিনাকে উদ্ধার করার জন্য ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এবং ভারতীয় সেনা পাঠানো হয়েছে বলে অপপ্রচার করছে এই গুজব সিন্ডিকেট। এর আগে গুজব ছড়িয়ে বলা হয়েছিল যে- শেখ হাসিনা লাগেজ ভর্তি করে টাকা নিয়ে বাহিরে রেখে এসেনছে। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারকে হেয় করার লক্ষ্যে প্রতিনিয়ত গুজব ছড়াচ্ছে বিএনপির পেইড এজেন্টরা।

এসব ধারাবাহিক গুজব ও পরিকল্পিত উস্কানির অংশ হিসেবে আবারো মাঠে নামেন খালেদা জিয়ার সাবেক মন্ত্রী ও উপদেষ্টা মাহমুদুর রহমান। ১০ ডিসেম্বর ঢাকায় বিএনপির সমাবেশের মাত্র ১০ দিন আগেও মাহমুদুর রহমান কনোক সারোয়ারের সাথে ইউটিউবে আলাপকালে বলেন, ‘শেখ হাসিনা গোপনে বিএনপির সাথে সমঝোতা করে নিজেকে বাঁচাতে চাচ্ছে। যাতে বিএনপি ক্ষমতা দখলের পর শেখ হাসিনাকে কিছু না বলে। বিএনপির ক্ষমতায় আসাটা এখন শুধু সময়ের ব্যাপারমাত্র।’

এসব অপপ্রচারের একটা অন্যতম উদ্দেশ্য হলো সরকারকে বিপাকে ফেলা। এর মূলে রয়েছে ধর্মীয় মৌলবাদী এজেন্ডা প্রচারের চেষ্টা। যা বাস্তবায়নে তারা পাবলিক বাসে আগুন জ্বালিয়ে, জীবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে মারার মতো কাণ্ড করেছিল। কিন্তু ব্যর্থ হয়েছে। এখন তাদের অন্যতম বড় আশ্রয় গুজব। সরকার এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও গুজব সৃষ্টিতে বিএনপি নিপুণ দক্ষতার পরিচয় দিচ্ছে। ফলে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্তদের এসব গুজব দমন ও ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। কারণ এসব গুজব শুধু সরকারের ক্ষতি করে না বরং সাধারণ মানুষের জানমালের জন্যও বড় হুমকি।

গুজবই কী কাল হলো বিএনপির জন্য:

এবার সম্ভবত নিজেদের গুজবের ফাঁদেই পড়েছে বিএনপি। কারণ বারবার প্রতারিত হতে হতে মানুষ বিএনপির গুজব সম্পর্কে কিছুটা সচেতন হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক সময়েও একাধিক গুজব ছড়িয়ে ধরা খেয়েছে বিএনপি। যেমন- রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে যখন জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পায়, তখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে জ্বালানির দাম সমন্বয় ও বিদ্যুতে রুটিন লোডশেডিংয়ের ঘোষণা দিয়ে জনগণকে সচেতন করে সরকার। এই ঘোষণার পরপরই গ্যাস-বিদ্যুৎ নিয়ে গুজব ছড়ানো শুরু করে বিএনপির গুজব সেল। দলটির নেতারা বলতে থাকেন- দেশে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি আর স্বাভাবিক হবে না। কিন্তু মাত্র দুই মাসের মধ্যেই আবারও সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ফিরে এসেছে, এমনকি গ্যাসের সরবরাহও বৃদ্ধি পেয়েছে।

ব্যাংকিং খাত এবং জ্বালানি খাত নিয়ে গুজব ছড়িয়ে সাময়িকভাবে জনমনে ভীতি সৃষ্টি করতে পেরেছিল বিএনপি। কিন্তু সরকার সতর্ক থাকায় এবং বিএনপির গুজবের সাথে বাস্তবতা না মেলায়, জনগণ সরকারের ওপরেই আস্থা রেখেছে পরে। ফলে সাময়িকভাবে গুজব ছড়িয়ে অস্থিরতা সৃষ্টি করলেও, জনগণ বিএনপির এসব গুজব থেকে খূব দ্রুতই নিজেদের রক্ষা করতে সমর্থ হয়।

এর আগে, করোনার সময় লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু হবে বলেও সমাজে ভীতি ছড়ানোর অপচেষ্টা করেছিল, এমনকি বিএনপি নেতারা নিজেরা টিকা নিলেও জনগণকে টিকা না নিয়ে মৃত্যুর মুখে পতিত হতে প্ররোচিত করেছে। এমনকি পদ্মা সেতুতে মানুষের মাথা লাগবে বলেও সমাজে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল বিএনপির গুজব চক্র, যে কারণে ছেলেধরা সন্দেহে পাঁচজন ব্যক্তি গণপিটুনির শিকার হয়ে মারা যায়।

পরে ধীরে ধীরে লোকজন এসব গুজব ও উস্কানির রাজনৈতিক নোংরামি সম্পর্কে বুঝতে শিখেছে। একারণে বিএনপির নাশকতা ও সহিংসতা থেকে সতর্ক হতে শুরু করেছে মানুষ। তবে অনেক অন্ধকর্মী এখনো বিএনপির গুজবে কান দিয়ে বসে থাকতে পছন্দ করে। সেই শ্রেণিটাও এবারের সমাবেশ, নিষেধাজ্ঞা ও সরকার দখলের গুজবের ওপর আশা রেখে ঢাকায় এসেছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কোনো কিছুই না ঘটায় সমাবেশ শেষের আগেই হতাশ হয়ে ফিরে গেছে।

লেখক: রাজনীতিবিদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *